একটা দোকান, এক দম্পতি আর একটা বদলে যাওয়ার গল্প: রাফি জেনারেল স্টোর
saymon Uncategorized
সকাল সকাল দুইজন মানুষ দোকানটার শাটার তুলেন। দোকানে চোখটা বুলিয়ে নেন একজন কী পণ্য লাগবে আর কী পণ্য আছে। আরেকজন হাতের কাছে সব গুছান, যেন কাস্টমার আসলে ঠিকমতই সব গুছিয়ে দিতে পারেন।
কথা বলছি ঢাকারই এক গলিতে একজন দম্পতি যারা বেশ কয়েকবছর ধরেই রাফি জেনারেল স্টোর নামের একটা মুদি দোকান চালাচ্ছেন। মুদি দোকানগুলো তো আসলে সব দেখতে একই। এই এতোটুকু জায়গাতেই সারি সারি পণ্য আর কাউন্টারের পিছনে একজন মানুষ।
যেই দোকানের মানুষগুলো নিয়ে বলতে যাচ্ছি তারা ভীষণ পরিশ্রমী আর স্বপ্নবাজ। তাদের এই পরিশ্রমের সঙ্গী ছিলাম আমরা। তাই তাদেরকে আপনাদের কাছে পরিচয়ও করে দিবো আমরাই।
স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই দোকানটা চালায় বেশ, তবে মহিলাটিই থাকেন বেশির ভাগ সময় দোকানে। কারণ কর্তা শুধু ব্যবসাই করেন না, করেন একটা ফুল টাইম জবও, সেলসম্যান হিসাবে। সকালে তিনিই সব কিছু বুঝিয়ে দেন স্ত্রীকে।
আর স্বামী চলে গেলে তিনি এক হাতেই সামাল দেন সবটা। দুজনের বোঝাপড়াতেই এগোচ্ছে তাদের দোকানটা।
যখন স্বপ্নটা আটকে যায় রাস্তার মাঝখানে
যেকোন ব্যবসার কিন্তু কিছু অসুবিধা থাকে। ব্যবসা তো শুরু করে ফেলাই যায়, কিন্তু ব্যবসাটাকে জুতসই করতেই সময় চলে যায় অনেকটা। এই দম্পতিরও পড়তে হলো একই সমস্যায়।
১. পাইকারি থেকে যে পণ্য আনা-নেয়া সেটা অনেক সময় সাপেক্ষ
২. পুরো সাপ্লাই চেইনটাই কেমন যেন ভঙ্গুর
৩. একেক ব্রান্ডের সবকয়টা পন্য এক জায়গাতে পাওয়া যায় না
৪. যাতায়াতেই খরচ বেড়ে যায় দ্বিগুণ
৫. আর্থিক সেবাগুলো তারা কোনভাবেই নিতে পারছিলো না
এই সব সমস্যা কিন্তু তাদের একার না। দুজনের হচ্ছিলো ব্যাপক ভোগান্তি।
কারণ চাকরি সামলে পাইকারি বাজারে ঘুরে ঘুরে পণ্য আনা দোকানের জন্য, এটা যেন যুদ্ধেরই শামিল। আর স্ত্রী যেহেতু থাকতেন দোকানে, কাস্টমার আসলে মনমত কোন পণ্য না পেলে তার সামনেই কাস্টমাররা চলে যেতেন আরেকটা দোকানে।
ব্যবসা যারা করেন এটা তাদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক। এমন ছোট ছোট জিনিসগুলো মিলেই একজন চাইছিলেন চাকরিটাই চালাতে, আর আরেকজন চাইছিলেন ব্যবসাটা ধরে রাখতে।
কারণ নিজের বলতে ব্যবসাটাই তো, নিজের সন্তানসম। দুজনের বাস্তবতা আর যুক্তি নিয়েই কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো।
তবে তাদের কি শেষমেশ থাকলো দোকানটা, নাকি আরও অনেকের মতই বন্ধ করে দিতে হয়েছিল?
ঠিক এই জায়গাতেই প্রিয়শপের একটা দারুণ এন্ট্রি হয়।
একটা সিদ্ধান্তেই আসলো একটা বড় পরিবর্তন!
ব্যবসাটাকে চালাতে চালাতেই তারা জানলো প্রিয়শপের নাম। প্রিয়শপের যে ৪৩টা হাব আছে যেখানে থেকে তারা প্রায় ২৯৬টার বেশি ব্র্যান্ডের পণ্য হাতে পাবে এক জায়গা থেকেই, এই তথ্যটা তাদের কাছে বেশ সুবিধাজনক লাগলো।
আবার আরও সুবিধা হলো ফোন দিলে আসবে রাইডাররা। আরও ভালো একটা ব্যাপার হচ্ছে প্রিয়শপের অ্যাপেও অর্ডার দেয়া যায় আর করা যায় ইনভেন্টরি ট্র্যাকিং। রিস্টকিংও করা যাবে ক্রেডিটেই, কোন ব্যাংকে দৌড়ানো লাগবে না। লাগবে না এর ওর থেকে মাস শেষে ধার করাও।
তো স্বামীটি চাকরি যেহেতু করেন, হিসাবে পাক্কা হতেই হয়। দুজনে মিলেই বসলেন হিসাব মিলাতে যে প্রিয়শপের সাথে যুক্ত হবেন কিনা। তো যেই কথা সেই কাজ, একটু সময় নিয়ে ভেবে তারা প্রিয়শপের সাথে যুক্ত হলেন।
সুবিধা পেলেন কী কী?
– দোকানে বসেই অর্ডার দেন, সব পণ্যই বুঝে পান স্বল্প সময়েই
– আর্থিক কারণে ব্যবসাটা আর বন্ধ করার দুশ্চিন্তা নেই
– নগদ নিয়ে কোন টেনশন নেই, ডিজিটালিই সব হয়
– বেস্ট ব্র্যান্ডগুলোর নামিদামি পণ্য দোকানে রিস্টক করা যায় নির্ভাবনায়
এই সব সুবিধা যখন থেকে তাদের হাতের নাগালে আসলো, আস্তে আস্তে দিন বদলের শুরু। স্বামী খুব নিশ্চিন্তেই চাকরিটা চালিয়ে যেতে পারছেন।
আর স্ত্রীও ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের মন মতন করেই।
দুজনেই বেশ খুশি। কারণ দোকানে আর পণ্য ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। ক্রেতারা এসে খালি হাতে ফেরেন না। আর সেই বিশ্বাসটাই ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিচ্ছে রাফি জেনারেল স্টোরের কাস্টমার বেস।
প্রিয়শপের অ্যাপ দিয়ে এখন দোকানে বসেই অর্ডার করা যায়। কোনো পণ্য শেষ হওয়ার আগেই স্মার্টফোনে কয়েকটা ট্যাপ আর সেই পণ্য সরাসরি চলে আসে দোকানের দরজায়। দূরের বাজারে যাওয়া নেই, রিকশা খরচ নেই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটানো নেই।
যারা একটা ছোট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বড় স্বপ্ন দেখেন, প্রিয়শপ তাদেরকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। যারা প্রতিদিন নিজেদের মতো করে লড়াই করেন, একটু ভালো থাকার জন্য, একটু এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
একটা দোকানের গল্প, লাখো দোকানের বাস্তবতা
রাফি জেনারেল স্টোরের এই বদলে যাওয়া আসলে একটা বড় চিত্রেরই এক টুকরো। বাংলাদেশজুড়ে এমন লাখো ছোট দোকান আছে, যাদের প্রতিদিনের লড়াইটা প্রায় একই রকম – পণ্য জোগাড় করা, সময় বাঁচানো আর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ খুঁজে পাওয়া।
আজ প্রিয়শপের সাথে যুক্ত আছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ছোট ব্যবসায়ী, যাদের মধ্যে রাফি জেনারেল স্টোরের মতো অসংখ্য দোকানও আছে। এই নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে পাশে আছে ২৯৬টি ব্র্যান্ড পার্টনার। আর দেশের ৪৩টি হাব থেকে ১২২টি উপজেলার ১,৪৭৪টি রুট ধরে প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে পণ্য।
শুধু পণ্য পৌঁছানোই নয়, এই দোকানদারদের হাতের নাগালে আনা হয়েছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, যাতে রাফি জেনারেল স্টোরের মতো দোকানগুলো শুধু টিকে থাকে না, বরং বড় হওয়ার সাহসও পায়।
রাফি জেনারেল স্টোরের স্বামী-স্ত্রীর মতো দেশের প্রতিটা কোণায় এমন মানুষ আছেন, যারা প্রতিদিন নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে একটা ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখেন।
প্রিয়শপের কাজ হলো সেই স্বপ্নের পথে বাধাগুলো একটা একটা করে সরিয়ে দেওয়া, যেন প্রতিটা ছোট দোকান হয়ে উঠতে পারে একটা পরিবারের বড় ভরসা।
রাফি জেনারেল স্টোরের গল্প এখনো দারুণ গতিতেই চলছে। প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয় সেই দম্পতির স্বপ্ন।
আর এই যাত্রায় তাদের পাশে আছে প্রিয়শপ, একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে।

Comments